যেসব কারণে রোযা মাকরূহ হয়না

প্রকাশিত: বুধবার, মে ১৫, ২০১৯ । সময়:- ১১:৪০ । খবর: বিশেষ সংবাদ/মতামত/শিরোনাম

হোছাইন আহমাদ আযমী : যেসব কারনে রোযা ভাঙ্গেনা এবং মাকরূহ হয়না ঃ ১. ভুলে কিছু পান করা বা আহার করা বা স্ত্রী সম্ভোগ করা। ২. যৌন উত্তেজনার সাথে কোন কিছু চিন্তা করলে বা কারো দিকে দৃষ্টি দিলে যদি বীর্যপাত ঘটে যায়। ৩. শরীর, মাথা, দাঁড়ি, ও গোঁেফ তেল লাগানো। ৪. চোখে সুরমা বা ঔষধ দেয়া হলে। যদিও গলায় স্বাধ অনুভুত হয়। (আহসানুল ফাতাওয়া) ৫. শিঙ্গা লাগানো। ৬. খুশবু লাগানো বা তার ঘ্রান নেয়া। ৭. মেছওয়াক করা, কাঁচা হোক বা শুস্ক। ৮. গরম বা পিপাসার কারনে গোসল করা বা বার বার কুলি করা। ৯. ইচ্ছাকৃত অথবা অনিচ্ছাকৃত কানে পানি ঢুকে গেলে। তবে ইচ্ছাকৃত হলে সতর্কতা মূলক সে রোযা কাযা করে নেয়া ভাল। (জাওয়াহেরুল ফিকাহ)

১০. অনিচ্ছাকৃত ভাবে মুখ ভরে বমি হওয়া। ইচ্ছাকৃত ভাবে অল্প বমি করলেও মাকরূহ হয়না তবে অনুচিত। ১১. সপ্নদোষ হওয়া। ১২. মুখের থুথু গিলে ফেলা। ১৩. যে কোন ধরনের ইনজেকশন বা টিকা লাগানো। (জাওয়াহেরুল ফিকাহ) তবে যেন রোযার কষ্ট রোধের উদ্দেশ্যে না হয়। অন্যথায় মাকরূহ হয়ে যাবে। ১৪. রোযা অবস্থায় দাঁত উঠালে এবং রক্ত পেটে না গেলে। ১৫. পাইরিয়া রোগের কারনে যে সামান্য রক্ত সব সময় বের হতে থাকে এবং তা গলার মধ্যে গেলে। (ফতুয়ায়ে রহিমিয়া ৩য় খন্ড) ১৬. সাপ বিচ্ছু দংশন করলে (ফতুয়ায়ে মাহমুদিয়া ৩য় খন্ড)।

১৭. পান খাওয়ার পর ভাল করে কুলি করা সত্তেও যদি থুথুতে লাল ভাব থেকে যায়। ১৮. রোযা অবস্থায় শরীর থেকে ইনজেকশনের সাহায্যে রক্ত বের করলে রোযা ভাঙেনা। এবং রোযা রাখার শক্তি চলে যাওয়ার মত দুর্বল হয়ে পড়ার আশংকা না থাকলে মাকরূহ হয়না (আহসানুল ফাতাওয়া ৪র্থ খন্ড)।

১৯. অনিচ্ছা সত্তেও গলায় ধোয়া বা ধুলা-বালি, মশা-মাছি প্রবেশ করলে। ২০. নাকে শ্লেষ্মা আসার পর তা ইচ্ছাকৃত ভিতরে টেনে নিলে বা গিলে ফেললে। ২১. তিল পরিমান কোন জিনিষ মুখের বাহির থেকে ভিতর নিয়ে চিবিয়ে অস্তিত্তহীন করে দিলে। তবে তার স্বাধ গলায় অনুভুত না হওয়া চাই।

উপরোক্ত বিষয়গুলো সংগঠিত হলে রোযা ভাঙবেনা এবং মাকরুহও হবেনা।

বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে রোযা-৯
[সিগমন্ড নারায়াড : (Sigmond Narayad)] তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী। তার থিওরী (Theory) মনোবিজ্ঞানী। তার থিওরী (Theory) মনোরোগ বিশেষজ্ঞগণের জন্য পথিকৃৎ। তিনি অভুক্ত থাকা ও রোযা রাখার পক্ষপাতি ছিলেন। তিনি বলেন, রোযা মনস্তাত্ত্বিক ও মস্তিষ্ক রোগ (Mental and Psychological) নির্মূল করে দেয়। মানব দেহে আবর্তন-বিবর্তন আছে। কিন্তু রোযাদার ব্যক্তির শরীর বারংবার বাহ্যিক চাপ (External Pressure) গ্রহন করার ক্ষমতা অর্জন করে। রোযাদার ব্যক্তি দৈহিক খিঁচুনী (Body Congestion) এবং মানষিক অস্থিরতা (Mental Depression) এর মুখোমুখী হয় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

11 + 2 =

SinglePostBottom