চতুর্থ বিশ্বকাপের অপেক্ষায় বাংলাদেশের চার ক্রিকেটার

নিউজ ডেস্ক : ৩০ মে ইংল্যান্ডে শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ ক্রিকেট ২০১৯। আসন্ন বিশ্বকাপের আগে প্রত্যেক দলগুলো নিয়ে চলছে নানা চুলচেরা বিশ্লেষণ। বড় বড় দলের পাশাপাশি বাংলাদেশকে নিয়ে কিংবদন্তি ক্রিকেটাররা আলোচনা করছেন।
ভারত-অস্ট্রেলিয়ার মতো বড় দলগুলোও এখন বাংলাদেশকে ব্যাপক সমীহ করে। বিশেষ করে বিগত বছরগুলোতে সাকিব-তামিম-মুশফিক-মোস্তাফিজদের নৈপুণ্য দেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব।
ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি বিশ্বকাপের দ্বাদশ আসরে বাংলাদেশের স্কোয়াডে আছেন অধিনায়ক হিসেবেব মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল। নিজেদের চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলার অপেক্ষায় বাংলাদেশের এই চার ক্রিকেটার।
ঘরের মাঠে ২০১১ সালে বিশ্বকাপ খেলা হয়নি মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার। নয়তো পাঁচটি বিশ্বকাপ খেলা হয়ে যেত নড়াইল এক্সপ্রেসের। ২০০৩ সালের পর ২০০৭, ২০১৫ বিশ্বকাপ খেলেছেন মাশরাফী। ২০১৫ বিশ্বকাপে ছিলেন দলের অধিনায়ক। এবার ইংল্যান্ড বিশ্বকাপেও বাংলাদেশের অধিনায়ক তিনি।
২০০৭ সালে বিশ্বকাপে প্রথম যাত্র শুরু মুশফিক, সাকিব ও তামিমের । ওই বিশ্বকাপ থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ বিশ্বকাপে মোট ২১টি ম্যাচ খেলেছে। প্রতিটিতেই ছিলেন মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল। এবারের বিশ্বকাপেও দেখা যাবে তাদেরকে।
পঞ্চপাণ্ডবের চারজনই এবার চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলার অপেক্ষায়। অন্য জন মাহমুদউল্লাহ নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপের অপেক্ষায়। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে তাদের সাফল্য-ব্যর্থতার ওপর নির্ভর করবে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ভাগ্য। বাংলাদেশের হয়ে এর আগে তিনটি বিশ্বকাপ খেলেছেন দুজন- মোহাম্মদ রফিক ও মোহাম্মদ আশরাফুল। ১৯৯৯ সালের পর ২০০৩ ও ২০০৭ বিশ্বকাপ খেলেছিলেন রফিক। আশরাফুল ২০০৩ সালের পর ২০০৭ ও ২০১১ বিশ্বকাপ খেলেছিলেন। ফিক্সিংয়ে না জড়ালে এখনো খেলা চালিয়ে যাওয়া আশরাফুল হয়তো খেলতে পারবেন ২০১৫ এবং ২০১৯ বিশ্বকাপ।
রফিক ও আশরাফুলের পাশে নাম লেখানোর অপেক্ষায় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও রুবেল হোসেন। ২০১১ বিশ্বকাপ ছিল দুজনের প্রথম। ২০১৫ বিশ্বকাপে মাহমুদউল্লাহ ছিলেন বাংলাদেশের সেরা পারফরমার। দুটি সেঞ্চুরি করে গড়েছিলেন ইতিহাস। রুবেলও পিছিয়ে ছিলেন না। ইংল্যান্ড-বধের আনসাং হিরো তো রুবেলই। এবারের বিশ্বকাপ দুজনেরই তৃতীয়।
বিশ্বকাপে চারজনের পারফরমেন্স :
বিশ্বকাপে ২১টি করে ম্যাচ খেলা মুশফিক, সাকিব ও তামিমের পারফরম্যান্স বেশ কাছাকাছি। মুশফিক ব্যাটিংয়ে ৫১০ রান করেছেন। সাকিব ২৩ উইকেটের সঙ্গে রান করেছেন সর্বোচ্চ ৫৪০। তামিমের রান ৪৮৩। মাশরাফি ১৬ ম্যাচে রান ১৬৫, উইকেট ১৮টি।
নির্দিষ্ট দিনে তাদের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স বেশ নজরকাড়া। ২০০৭ সালে ভারতের বিপক্ষে তামিমের ৫১ রানের ইনিংস এখনো বাংলাদেশের সেরা ইনিংসের একটি। ওই ম্যাচেই মুশফিকের অপরাজিত ৫৬ রান তো মহামূল্যবান। ম্যাচসেরা নির্বাচিত হওয়া মাশরাভও বোলিং ছিল এরকম ৯.৩-২-৩৮-৪। সাকিব বোলিংয়ে উইকেট না পেলেও ব্যাটিংয়ে করেছিলন ৫৩ রান।
২০১৫ বিশ্বকাপে নেলসনে তামিমের ৯৫ রানে ভর করেই তো বাংলাদেশ স্কটল্যান্ডের দেয়া ৩১৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছিল। ২০১৫ বিশ্বকাপে মুশফিক ছিলেন সবচেয়ে ধারাবাহিক। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৭১ রানের পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৬, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৬০, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৮৯ রান করেছিলেন। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে সাকিব সব সময়ই মূল্যবান। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি রান ও উইকেট বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডারের দখলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 − 3 =

SinglePostBottom