ইফতারের পূর্বে দোয়া করা মোস্তাহাব

হোছাইন আহমাদ আযমী : সূর্র্য অস্ত যাওয়ার পর তাড়াতাড়ি ইফতার করা মুস্তাহাব। দেরিতে ইফতার করা মাকরূহ। মেঘাচ্ছন্ন দিনে দেরি করে ইফতার করা ভাল। যখন সূর্য অস্ত যাওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হবে, তখন ইফতার করবে। ঘড়ি ও আজানের উপর নির্ভর করে ইফতার করবে না । কারন তাতে ভুল হতে পারে। সবচেয়ে উত্তম হলো খোরমা দিয়ে ইফতার করা। খোরমা না থাকলে যে কোন মিষ্টি জাতীয় খাদ্যদ্রব্য দ্বারা ইফতার করবে। তাও না থাকলে পানি দিয়ে ইফতার করবে। ইফতারের সময় দোয়া কবুল হয়, তাই ইফতারের পূর্বে দোয়া করা মোস্তাহাব। (জাওয়াহেরুল ফতুয়া)

রোযা শুদ্ধ হওয়ার অন্যতম শর্ত হালাল খাদ্য দ্বারা ইফতার করা। তবে ইফতারের সময় হালাল খাদ্য দ্বারা হলেও পেট পূর্ণ করে খাওয়া যাবে না। ইমাম গাজ্জালী (রহ.) বলেন, রোযার উদ্দেশ্য হল, শয়তান এবং নফস তথা প্রবৃত্তিকে দমন করা, কিন্তু ইফতারে যদি বেশি খাওয়া হয় তবে এর উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। এতে আমরা শুধু খাবারের সময় পরিবর্তন করলাম, রোযার কোন উদ্দেশ্য সাধন হলো না।

পশ্চিম দিকে প্লেনে সফর করলে যদি দিন লম্বা হয়ে যায় তাহলে সুবহে সাদিক থেকে নিয়ে ২৪ ঘন্টার মধ্যে সুর্যাস্ত হলে, সুর্যাস্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আর যদি ২৪ ঘন্টার মধ্যে সুর্যাস্ত না হয় তা হলে ২৪ ঘন্টার কিছু পূর্বে ইফতার করে নিবে। পূর্বদিকে প্লেনে সফর করলে যখনই সুর্যাস্ত পাবে তখনই ইফতার করে নিবে (আহসানুল ফাতাওয়া)।

যে কেউ অন্য কাউকে ইফতার করাবে এটা তার জন্য গুনাহ মাফ এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তির কারণ হবে। রোযাদার ব্যক্তির সওয়াবের মত সেও সওয়াব প্রাপ্ত হবে অথচ রোযাদারের সওয়াব বিন্দুমাত্র হ্রাস করা হবে না। সাহাবায়ে কেরাম আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের মধ্যেতো অনেকেরই এই সামর্থ নেই যে, অন্যকে ইফতার করাবে অর্থাৎ পেট ভরে খাওয়াবে। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করলেন এটা পেট ভরে খাওয়ানোর উপর নির্ভরশীল নয় বরং এই সওয়াব তো সেই ব্যক্তিও প্রাপ্ত হবে, যে একটি খেজুর কিংবা এক ঢোক পানি অথবা এক ঢোক দুধও পান করাবে।

বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে রোযা -৮
[ডা. লুথরজেম অব ক্যামব্রিজ :] তিনি ছিলেন একজন ফারমাকোলোজী (Pharmacology) বিশেষজ্ঞ। প্রতিটি বস্তুকে গভীর ভাবে দেখা ছিল তার স্বভাবগত ব্যাপার। একবার তিনি ক্ষুধার্ত মানুষ (রোযাদার) এর পাকস্থলীর আর্দ্র পদার্থ (Stomach Secretion) নিয়ে তার ল্যাবরেটরীতে টেষ্ট করেছিলেন। পরীক্ষা করে তিনি দেখতে পেলেন তাতে সেই খাদ্যের দুর্গন্ধময় উপাদান (Food Particles Seption) যার দ্বারা পাকস্থলী রোগ-ব্যাধী গ্রহন করে তা একেবাওে নিঃশেষ হয়ে যায়। মি. লুথর বলেন, রোযা শারীরিক, বিশেষভাবে পাকস্থলীর রোগ ব্যাধি থেকে মুক্তির গ্যারান্টি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

13 − eleven =

SinglePostBottom